চাকরী খুঁজছেন?

Click Here For Online Apply

Friday, June 21, 2019

একটি বাংলা রোমান্টিক গল্প

  নায়া কিছুদিন ধরে সে লক্ষ্য করছে, তার হাজবেন্ড শফিক কার সাথে জানি প্রতিদিন রাতে ফোনে কথা বলে। রাতে সে অপেক্ষা করতে করতে ঘুমিয়ে যায় কিন্তু শফিক আর আসে না। নায়া জিজ্ঞাসা করলে বলে কানাডার বায়ারদের সাথে ভিডিও কনফারেন্স করে। এই টাইমটা বায়ারদের জন্য সুবিধাজনক। নায়া আক্ষেপ করে বলে তুমিতো কতদিন আমার কাছে ও আসো না। প্রতিউত্তরে শফিক বলে তুমি ঘুমিয়ে থাকো তাই আর তোমাকে জেগে তুলি না । তোমার ঘুম নষ্ট হবে তাই। নায়া বুঝে না, যে শফিক সত্যি কথা বলছে কিনা!

 নায়াকে প্রতিদিন কে জানি মোবাইলে মেসেজ দেয়।খারাপ কিছু না,এমনি কেমন আছেন, কি করছেন টাইপ কথাবার্তা। নায়া।উত্তর দেয় না।চিনে না, জানে না এমন কারো মেসেজ এর উওর দেয়ার কোন মানে হয় না।সময় নষ্ট। নায়ার একটা মেয়ে আছে। ওকে সময় দেয়া, সংসারের কাজ এসব নিয়েই ওর দিন কেটে যায়।

 শফিক এর এক দূরসম্পর্কের কাজিন নিলয় নায়াকে একদিন ফোন দিয়ে বলে ভাবি শাড়ি পছন্দ হইসে? নায়া বলে কিসের শাড়ী? নিলয় ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। বলে না মানে শফিক ভাইয়া কাল কে আমার দোকান থেকে কিছু শাড়ি কিনে নিয়ে গেল, আমি ভাবলাম যে আপনার জন্য নিল।নায়া হিসেব করে দেখে আগামী সপ্তাহে ওদের বিবাহ বার্ষিকী তাই সে খুব খুশি হয়ে যায় এই ভেবে যে ওর জন্যই কিনেছে। নিলয় কে ও তাই বলে।নিলয় বলে সরি ভাবী। আপনার সারপ্রাইজ আমি নষ্ট করলাম। নায়া বলে কোন ব্যাপার না। বরং শাড়ি কেনার কথা শুনে আমি খুশি হলাম।

 এই কয়টা দিন নায়ার মনটা খুব খুশি খুশি। সে অধীর আগ্রহে তার বিবাহ বার্ষিকীর জন্য অপেক্ষা করছিল। দেখতে দেখতে সেই কাঙ্ক্ষিত দিন ও চলে আসল।প্রতিদিনের মত সেদিনও শফিক ফোনেই ব্যস্ত ছিল। ঘড়ির কাটায় তখন রাত একটা। শফিক তাঁর মোবাইল নিয়ে পাশের ঘরে ব্যস্ত। অপেক্ষা করতে করতে রাত তিনটা বেজে যায়। তখন শফিক ঘরে ঢুকে। নায়াকে জেগে থাকতে দেখে অবাক হয়ে বলে কি ব্যাপার এখনো ঘুমাওনি যে? নায়া বলে তোমার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। শফিক বলে অপেক্ষা করার কি বিশেষ কোন কারন আছে? নায়া বুঝতে পারে শফিকের কিছুই মনে নাই। নায়া আর কিছু বলে না। শফিকের দিকে গভীর ভাবে তাকিয়ে থাকে। শফিক তাঁর সেই দৃষ্টিকে উপেক্ষা করে বলে আমি ঘুমালাম। কিন্তু নায়া আর ঘুমাতে পারে না। সে কোনভাবেই আজকের শফিককে, আগের শফিকের সাথে মিলাতে পারে না। শফিক আর নায়ার প্রেম করে বিয়ে ছিল। নায়া সবে মাত্র এইচএসসি পাস করেছে।এত ছোট মেয়েকে নায়ার বাসা থেকে বিয়ে দিতে চাচ্ছিল না। কিন্তু শফিক নায়াকে ছাড়া আর এক মুহূর্ত ও থাকার জন্য প্রস্তুত ছিল না। শফিক শিক্ষিত এবং অবস্থাপন্ন ঘরের ছেলে। পাত্র হিসেবে যথেষ্ট যোগ্য ছিল। আর নায়াও যেহেতু শফিককে ভালোবাসতো তাই তার পরিবার না চাইতেও সেই সময় বিয়ে টা দিয়ে দেয়। নায়া ছিল শফিকের একদম পুতুল বউ। শফিক এত যত্ন করতো নায়ার আর নায়ার গ্রাজুয়েশন টা ও শেষ করায়। নায়ার স্পষ্ট মনে আছে ব্যবসার কাজে শফিক যে কয়বার দেশের বাইরে গিয়েছে, যাওয়ার আগে নায়াকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে যেত। আর নায়ার কোল জুড়ে যখন ওর মেয়ে অদ্রি আসে ওদের সংসার যেন খুশির সাগরে ভাসছিল। সব তো ঠিকই ছিল। গত এক বছর ধরে শফিকের পরিবর্তন টা অনেক বেশি চোখে পড়ছে নায়ার।এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে সকাল হয়ে যায় নায়া টেরই পায় না।

 প্রচন্ড মন খারাপ নিয়ে নায়ার দিনটা শুরু হয়। অদ্রি কি স্কুলে পাঠিয়ে দিয়ে চুপচাপ বসে থাকে।নায়ার পরিবারের লোকজন শফিককে খুব ভালো জানে। তাই নায়া কোন কিছু না জেনে আগেই শফিককে নিয়ে ওদের সাথে কিছু শেয়ার করতে চাচ্ছে না । হঠাৎ সেই বিশেষ নাম্বার থেকে মেসেজ "মন ভালো? " নায়ার এই প্রথম মেসেজের উত্তর দিতে ইচ্ছা করে। সে লিখে পাঠায় আমার মনটা প্রচন্ড খারাপ। ওই নাম্বার থেকে আবার মেসেজ "আমি কি আপনাকে ফোন করতে পারি? " নায়া আর উত্তর দেয় না। পরদিন সেই নাম্বার থেকে আবার মেসেজ "মন ভাল হয়েছে? " নায়া এইবার লিখে পাঠায় আপনি কে?সে লিখে "পরিচয় হতে চান?আমি ফোন করছি প্লিজ ধরবেন "নায়া ফোন টা ধরে। সেই মানুষ টার সাথে কথা বলা ঠিক ছিলো কি, ছিলো না সেই প্রশ্ন নায়ার মনে আসে নি কিন্তু কথা বলে ওর অনেক ভালো লেগেছে। এত উচ্ছল আর প্রনবন্ত মানুষ সে, কথা বলে নায়া তার মন খারাপ কিছু সময় এর জন্য ভুলে গিয়েছিল। মানুষ টার নাম ইমন।ব্যবসায়ী, অবিবাহিত। নায়ার মোবাইলে একদিন ভুলে ফোন চলে এসেছিলো। সেই সুত্রে নায়ার নাম্বার টা পায় সে।

 শফিক এর নায়ার প্রতি ব্যবহার অপরিবর্তিত। নায়া সহ্য করতে না পেরে একদিন শফিক কে প্রশ্ন করে বসে "শফিক তোমার কিছু বলার থাকলে আমাকে বলতে পারো "।প্রশ্নটা শুনে শফিক একেবারেই বিচলিত হয় নি।ভাবলেশহীন ভাবে বলল আমার কিছুই বলার নাই। নায়ার প্রচন্ড রাগ উঠে যায়। সে বলে কিন্তু আমার অনেক কিছু বলার ছিল। তুমি আমাকে ছুঁয়ে দেখনা কত দিন হল? কোন হিসেব আছে তোমার?এই প্রশ্নে শফিকের কোন উত্তর নাই। আর তুমি কার জন্য শাড়ি কিনেছিলে? এই কথায় শফিক প্রচন্ড রেগে যায়। বলে ও আমার পিছনে স্পাই লাগিয়ে রেখেছো? বলে আমার যাকে ইচ্ছা হবে তাকে আমি শাড়ি গিফট করবো। তোমার তো কোনো সমস্যা হওয়ার কথা না! নায়া শফিকের এই রূপ দেখে এতই অবাক হয় যে আর কিছুই বলতে পারেনা। পরদিন অদ্রি কে নিয়ে নায়া ওর বোনের বাসায় চলে যায়।

 নায়া বাসা ছেড়ে এসেছে অনেকদিন হয়ে গেল। শফিকের এ নিয়ে কোন ভাবান্তর নাই। একদিন শুধু অদ্রির জন্য ফোন করেছিল। যাতে ওকে শফিকের কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়। অদ্রি এখন কিছুদিন নায়া আর কিছুদিন শফিকের কাছেই থাকে। এরমধ্যে ইমন এর সাথে নায়ার খুব ভালো একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। নায়া এই সময় ওর জীবনটাকে গুছিয়ে নিতে শুরু করে। ইমন এর বন্ধুত্ব ওকে এ ব্যাপারে শক্তি দেয়। নায়া আস্থা আর বিশ্বাসের একটা জায়গা খুঁজে পাই ইমনের মাঝে। নায়া একটা স্কুলে চাকরি পেয়ে যায়।এই চাকরি টা তার আত্মবিশ্বাস কে বাড়িয়ে দেয়। শফিক কে ছাড়া ও নায়ার জীবন টা খারাপ যাচ্ছিল না।এর মাঝে একদিন জানতে পারে শফিকের তার খালাতো বোন নীলার সাথে সম্পর্ক। নীলা ডিভোর্সি ছিল। নায়া বাসা ছাড়ার পর সে প্রায় ই ওই বাসায় থাকে। এই কথা শুনার পর নায়ার শফিক এর প্রতি ঘৃনায় মন টা বিষিয়ে যায়।সে শফিককে ডিভোর্স দেয়ার চিন্তা করে। কিন্তু তার আগেই শফিক ডিভোর্স লেটার পাঠায়। তত দিনে নায়ার মন অনেক শক্ত, সে ও সাইন করে দেয়।
নায়ার জীবনটা ভালোই কেটে যাচ্ছিল। ওর এই সময়টায় ইমন ওর খুব কাছে চলে আসে।তারা প্রায় ই দেখা করত।এর মধ্যে ইমন নায়াকে ওর ফ্যামিলির সাথে ও পরিচয় করিয়ে দেয়। ইমন এর পরিবারের সবাইকে নায়ার বেশ লাগে।একদিন সুযোগ বুঝে ইমন নায়াকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। নায়ার খুব সংকোচ হয় কারন ইমন অবিবাহিত একজন।সে অবশ্যয়ই নায়ার চেয়ে আরও ভালো কাউকে আশা করে।আর ইমন এর ফ্যামিলিই বা কি মনে করবে? নায়াকে খারাপ ভাবতে পারে। তাই নায়া ইমনকে বলে আগে তার পরিবারের অনুমতি নিতে।সাথে এটাও বলে তোমার পরিবার রাজী না হলে এই সম্পর্ক কে এগিয়ে নেয়ার কথা একটুও ভাববে না।ইমন নায়া কে এই বলে আশ্বস্ত করে যে পরিবারের অমতে গিয়ে সে কিছু করবে না।

 বেশ কিছুদিন কেটে যায় ইমন এর কোন খবর নাই। অজানা আশংকায় নায়ার মন টা বিক্ষিপ্ত। নায়া বুঝে ইমন তার জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। কয়দিন পর নায়ার সকল চিন্তার অবসান ঘটিয়ে ইমন খুশি মনে হাজির। নায়াকে জানায় ইমন এর পরিবারের কোন আপত্তি নেই ওদের সম্পর্কের ব্যাপার এ।কথাটা শুনে নায়ার মন থেকে একটা বোঝা নেমে যায়।সেদিন ওরা খুব ভালো সময় কাটায়।নিজেদের ভবিষ্যতের একটা মায়া ভরা ছক বানিয়ে ফেলে। ইমন সেদিন এর মত বিদায় নেয়। কিন্তু ভুলে ওর মোবাইল টা ফেলে যায় নায়ার বাসায়।

 সেদিন সময়টা ছিল পড়ন্ত বিকেল। রহস্যে ঘেরা পরিবেশ।কিন্তু নায়ার কাছে জীবনের হিসাব টা পরিষ্কার হয়ে গেল। নায়া কেমন অনুভব করছিল সেটা বর্ণনা করা সম্ভব নয়।কষ্ট শব্দ টা খুব তুচ্ছ হবে। যেই হাহাকার ওর মনে তৈরি হয়েছে, সেটা কে কি সে ভুলতে পারবে কোনদিন? পুলিশ ইমন কে ধরে নিয়ে গেল।সেদিন ইমন ফোন টা নায়ার বাসা তে রেখে এসেছিল, যদিও অল্প কিছু সময়ের জন্য। কিন্তু সেই অল্প সময়টাতে আসা অসংখ্য মেসেজ নায়ার দৃষ্টি এড়াতে পারেননি, না চাইতেও।ওর সন্দেহ হয়। তারপর ঘটনা খুব দ্রুত ঘটে। নায়ার এক কাজিন পুলিশের বড় কর্মকর্তা।তাকে ব্যাপারটা খুলে বলে। ইমন এর মোবাইল ট্র্যাক করা হয়।তাতে অনেক বড় সত্য বেরিয়ে আসে। ইমন নারী পাচারকারী দলের সাথে যুক্ত। তার পরবর্তী টার্গেট ছিল নায়া।পুলিশ ঘটনা জানার পর, নায়ার সহায়তায় ইমনকে ধরতে পারে।নায়া এই ভেবে শিউরে ওঠে কি হতে যাচ্ছিল তার জীবনের সাথে!
কিছু বছর পর...

 নায়া ভালো আছে।সে জানে সুখী হওয়ার জন্য কারো উপর নির্ভর করতে নেই।চাইলে নিজেই নিজেকে নিয়ে সুখে থাকা যায়।নায়া যে স্কুল টাতে জব করতো এখন সে ওই স্কুলের সিনিয়র টিচার। বাসায় ও সে অনেকগুলি স্টুডেন্ট পড়ায়। দিব্যি চলে যাচ্ছে তার দিন। ওর মেয়ে প্রায় ই ওর সাথে এসে সময় কাটায়, নায়ার খুব ভালো লাগে।আর কি লাগে জীবনে? 

No comments:

Post a Comment

Thanks For Stay With Us